বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরছেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। আগামীকাল রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে জানা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের নানা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ায় সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। প্রায় দশ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে তিনি বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৯ সালে বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০২২ সালে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান তিনি। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে রাশেদুল হক মানবাধিকার, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশটির সংসদে (আপার হাউস ও নিম্নকক্ষ) একাধিক কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেন। তার উদ্যোগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন।
এছাড়া তার কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে বাংলাদেশের দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। পরবর্তীতে ৪৩ জন সিনেটর ও এমপি র্যাবের বিলুপ্তি, আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের আহ্বান জানান।
২০০৭ সালের ১/১১ সময়কাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে নিয়মিতভাবে সেমিনার, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনেও একাধিক বিক্ষোভের আয়োজন করেন রাশেদুল হক।
দীর্ঘ এই সময় জুড়ে দলের পক্ষে তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। দলের হাইকমান্ড মনে করছে, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে রাশেদুল হকের দেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।